Photos
Reviews
5.0
3 Reviews
Tell people what you think
Rony Mridha
· September 7, 2014
Etrybiz is a good IT service in Bangladesh. they provide a quality service :)
Posts
Sign up for free Bitcoins, Litecoins, Feathercoins and other cryptocurrencies. Refer your friends and earn up to 1,250% extra!
qoinpro.com
Rony Mridha

You can get 19,000 ++ token as free if you log in to facebook.. try it and get the token. it will launch in march/2018

To claim your free POW 'lite' simply sign-in using your Facebook or Twitter account (you can make a separate claim from each!)
powtoken.com
Posts
Rony Mridha

Invest crypto with world best ICO broker. 100% safe.

币安(Binance)是一个区块链数字资产交易平台,引领币币交易创新模式,提供比特币、以太坊、莱特币、币安币等主流虚拟数字货币交易.为用户打造区块链资产交易平台,数字货币交易平台,虚拟货币交易平台,提供BTC交易,ETH交易,LTC.....
binance.com
Image may contain: night
Forex Business Solutions

ফরেক্স বিজনেস সলুশনের দুটি সেবা
******************************************
১।ফরেক্স প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্স।
ফরেক্স প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্স। কোর্সটিকে বেসিক থে...কে এডভান্স লেভেলের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদির সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে।অর্থাৎ উক্ত ট্রেনিং কোর্সে ট্রেডিং কেরিয়ারের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সকল মৌলিক বিষয়াদির উপর পুঙ্খানুপুঙ্খরুপে আলোকপাত করা হয়েছে। যা গতানুগতিক ট্রেনিং সেবা থেকে সম্পূর্ন ব্যতিক্রম।কারন বেসিক থেকে এডভান্স লেভেল পর্যন্ত সর্বমোট ৫ টি অধ্যায়ে প্রায় ৮০টি অনুচ্ছেদে ট্রেডিং কেরিয়ারের দীর্ঘ ৭ বছরের মার্কেট স্টাডি ও ট্রেডিং বিষয়ক প্রাকটিকাল অভিজ্ঞতাগুলোকে বিভিন্ন ফরমেটে সর্বমোট ২৮ টি ক্লাসে সাজানো হয়েছে।ফলে কেরিয়ার প্রত্যাশিদের জন্য এটি একটি আদর্শ ট্রেনিং কোর্স।তাছাড়া যাদের পুঁজিগত সমস্যা রয়েছে তাদের জন্যেও রয়েছে আলাদা একটি অধ্যায় এবং ছয় মাসের একটি বাস্তবসম্মত কর্ম পরিকল্পনা। ফলে বিনিয়োগ সমস্যার কারনে ফরেক্স ফিল্ড থেকে পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
-------
FOREX PROFESSIONAL TRAINING COURSE ( Fee 14,000TK)
অধ্যায় ০১: Forex basic (ফরেক্স মার্কেট,ট্রেডিং প্লাটফর্ম ও ব্রোকার)
ক্লাস সমূহ
01| Introducing Forex Market
02| Forex brooking system & finance.
03| Foreign exchange & Multiple Trading.
04| Exchange & Forex Terminology.
05| Trading Platform-P1
06| Trading Platfrom-Part-02
07| Trading Platfrom-Part-03
-------
অধ্যায় ০২: Technical section (মার্কেট মূল্যায়ন ও প্রস্ততি)
ক্লাস সমূহ
01| Candle sticks Pattern
02| Chart Pattern Basic & Higher.
03| Forex price Action basic.
04| Forex advance price action.
05| Forex Indicators Activity.
06| Summary of technical analysis
--------
অধ্যায় ০৩: Fundamental section (মার্কেট মূল্যায়ন ও প্রস্তুতি)
ক্লাস সমূহ
01| Forex Fundamental & Economy
02| Forex Supply & demand
03| Currency analysis & strategy
04| Technical vs Fundamental
05| Summary of Fundamental analysis
--------
অধ্যায় ০৪: Sentimental section (মার্কেট মূল্যায়ন ও প্রস্তুতি)
ক্লাস সমূহ
01| Risk management/Money management.
02| Forex study tools & Market condition.
03| Trade sentiment for Entry & Exit.
04| Forex journal & Major Mistakes
05| Summary of Sentimental analysis.
---------
অধ্যায় ০৫: Trading & Strategy section ‍(লেনদেন বা ক্রয়-বিক্রয় কৌশল)
ক্লাস সমূহ
01| Multi Time Frame analysis & Trading Format.
02| Forex dealing system & styles.
03| Analysis before Entry & Exit.
04| CFD & Metals Trading details.
05| Major 5 Trading strategy & Rules
----------
অধ্যায় ০৬: Forex Career (ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও পূর্নাঙ্গ সেটাপ)
ক্লাস সমূহ
01| Solve your capital Problem
02| Forex as a freelancing.

{--------------------------------}
২।ফরেক্স গ্রুপ ট্রেডিং সেবা
ফরেক্স বিজনেস সলুশন থেকে যারা ট্রেনিং গ্রহন করবে তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা হচ্ছে গ্রুপ ট্রেডিং সেবা। অর্থাৎ একজন প্রফেশনাল ট্রেডার হিসাবে প্রতি ট্রেডিংসপ্তাহের পজিশনগুলো গ্রুপ মেম্বারদের সাথে শেয়ার করা।যেন সম্মিলিত ভাবে সবাই লাভবান হতে পারি এবং কেউ যেন ঝড়ে না পড়ে।এছাড়া প্রয়োজন সাপেক্ষে গ্রুপ মেম্বারগন ট্রেডিং বিষয়ক কাউন্সেলিং এবং একাউন্টের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করনেরও সুযোগ পাবে।এখানে কোন সিনিয়র জুনিয়র বা ভিআইপির ভেদাভেদ নেই। তাছাড়া প্রতিটি গ্রুপ সদস্যের ট্রেডিং একাউন্ট ইনভেস্টর পাসওয়ার্ডের সাহায্যে আলাদা টার্মিনালে লগইন করা থাকে যা গ্রুপ মেম্বারদের ফরেক্স বিমার বা কমন রোগগুলো থেকে বাঁচিয়ে রাখতে সহায়তা করে।
-
{গ্রুপ ট্রেডিংয়ের কিছু প্রয়োজনীয় বিষয়}
01= নূন্যতম ব্যালেন্স ৫০০ ডলার।
02= রিস্ক লেভেল ১% প্রতি ট্রেডে।
03= সাপ্তাহে ট্রেডের পরিমান সর্বোচ্ছ ৫ টি। প্রতি ট্রেডে গড় টার্গেট ৪০ পিপস।
04= মাসিক ফি ২০ ডলার (যেকোন বিনিয়োগ এমাউন্টের জন্য)
05= ট্রেডিং স্টাইল: সুয়িং,মধ্যমগতী এবং লং টার্ম
-
সর্বপরি ফরেক্স বিজনেস সলুশন ট্রেনিং এ আপনাকে স্বাগতম।আপনিও হতে পারেন একজন দক্ষ প্রফেশনাল ফরেক্স ট্রেডার।ফরেক্স হতে পারে আপনার জন্য শ্রেষ্ট উপহার। তাই ফরেক্স শিখুন বেকারত্ব থেকে বেরিয়ে আসুন। কেরিয়ার গড়ুন বিশ্বের বৃহত্তম ট্রেডিং মার্কেটে।
------------------------------------
Mobile: +88 01712 996071
Admin: Forex Business Solutions
Skype: ronycmt

See More
Rony Mridha

Get 1000 Coin Free...

The Action Coin Platform represents over 400,000 Action collectors and customers from more than 200 countries and territories. It is the basis of an incentive-driven rewards program with “points” that are rewarded in the form of a decentralized, blockchain-based digital asset known as Action (�...
actioncoin.io
Rony Mridha

binance is open now for registration

币安(Binance)是一个区块链数字资产交易平台,引领币币交易创新模式,提供比特币、以太坊、莱特币、币安币等主流虚拟数字货币交易.为用户打造区块链资产交易平台,数字货币交易平台,虚拟货币交易平台,提供BTC交易,ETH交易,LTC�...
binance.com
Rony Mridha

Binance just reopened to the public...
Get in before it closes again!

币安(Binance)是一个区块链数字资产交易平台,引领币币交易创新模式,提供比特币、以太坊、莱特币、币安币等主流虚拟数字货币交易.为用户打造区块链资产交易平台,数字货币交易平台,虚拟货币交易平台,提供BTC交易,ETH交易,LTC�...
binance.com
Image may contain: 1 person, eyeglasses and closeup
Rony Mridha

বিটকয়েন, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন:

বিটকয়েন শব্দটি গত কয়েক মাসে আমাদের খুব পরিচিত হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকও বিটকয়েনের কেনাবেচা বিষয়ে সতর্কতা জারি ক...রে একটি সার্কুলার প্রচার করেছে। কিন্তু বিটকয়েন কী? এ বিষয়ে অনেকেরই পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই। এ নিয়ে বাংলায় তেমন কোনো লেখাও চোখে পড়েনি। বিটকয়েন ও তার সঙ্গে সম্পর্কিত ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন বিষয়গুলোকে বাংলায় ব্যাখ্যার জন্যই এ লেখা।

বিটকয়েন এক ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি বা সাংকেতিক মুদ্রা। টাকা, ডলার, ইয়েন ইত্যাদিকে যেমন হাতে নিয়ে আদান-প্রদান করা যায়, সাংকেতিক মুদ্রার ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। সাংকেতিক মুদ্রার অস্তিত্ব শুধু ইন্টারনেটের জগতে তথ্য আকারে। বিটকয়েন ছাড়াও এ রকম হাজারখানেক সাংকেতিক মুদ্রা আছে। এর মধ্যে বেশ পরিচিত ইথেরিয়াম, লিটকয়েন, রিপল, অল্টকয়েন ইত্যাদি। তবে সবার পূর্বসূরি ও সবচেয়ে পরিচিত হলো বিটকয়েন।

বিটকয়েন তাহলে এক ধরনের তথ্য। যেমন ‘ক’ নামের একজন ব্যক্তির কাছে ১০০টি বিটকয়েন আছে, এটি একটি তথ্য। এ তথ্যের উৎস কী অথবা কীভাবে ‘ক’ নামের একজন ব্যক্তি ১০০টি বিটকয়েনের মালিকানা অর্জন করতে পারেন? এটা ব্যাখ্যা করতে হলে আমাদের বিটকয়েনের শুরুর দিকে তাকাতে হবে। বিটকয়েনের জনক সাতোশি নাকামোতো ছদ্মনামের একজন, যার প্রকৃত পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তিনি ২০০৯ সালের দিকে বিটকয়েন সৃষ্টি করেন। বিটকয়েনের মূল প্রযুক্তিকে বলা হয় ব্লকচেইন। এ প্রযুক্তিতে বিটকয়েন বিনিময়ের তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখতে হয়। এ যাচাই-বাছাই করার মাধ্যমে সৃষ্টি হয় তথ্যের অপ্রবর্তনীয় ব্লক। ব্যাপারটা অনেকখানি ইটের দেয়াল তৈরির মতন। একেকটি ব্লক একেকটি ইটের মতো, একবার বসানো হয়ে গেলে আর ভেঙে ফেলা যায় না। নতুন ইট যেমন বসাতে হয়, পুরনো ইটের ওপর তেমনি বিটকয়েনের নতুন ব্লকগুলো তৈরি হয় পুরনো ব্লককে ভিত্তি ধরে। সাতাশি নাকামোতো প্রথম ব্লকটি তৈরি করেন এবং বিনিময়ে ৫০টি বিটকয়েন অর্জন করেন। এভাবেই বিটকয়েনের সৃষ্টি। বিটকয়েনের মূল ব্যাপারটা হলো, যেকোনো বিনিময়কে অত্যন্ত জটিল এক ধরনের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একের পর এক তৈরি হয় তথ্যের অপরিবর্তনীয় ব্লক। এ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াকে বলা হয় মাইনিং এবং যারা কাজটি করেন তাদের বলা হয় মাইনার। বাংলায় বলা যায়, খনন ও খননকারী। যাচাই-বাছাই আর ব্লক তৈরিতে অবদানের পুরস্কারই হলো বিটকয়েন। এজন্যই বিটকয়েনের মাইনিংকে পাহাড় খুঁড়ে স্বর্ণ বের করে আনার সঙ্গে তুলনা করা হয়। সাতোশি নাকামোতো এমনভাবে তার প্রোগ্রামটি লিখেছেন যে, সর্বোচ্চ ২১ মিলিয়ন অর্থাৎ ২ কোটি ১০ লাখ বিটকয়েন সৃষ্টি মানে মাইন করা যাবে এবং তা হবে ২১৪০ সাল নাগাদ। অন্য সাংকেতিক মুদ্রাগুলোও এভাবে ব্লক সৃষ্টি ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে মাইন করা হয়ে থাকে। ব্লকচেইন সবগুলোর মূল প্রযুক্তি।

আগের প্রশ্নে ফিরে এলে ‘ক’ নামে ব্যক্তি দুভাবে বিটকয়েনের মালিকানা পেতে পারেন। তার একটি বিটকয়েন মাইনিং এবং আরেকটি হলো, অন্যের কাছ থেকে ক্রয় করে বা উপহার হিসেবে। কিন্তু বিটকয়েনের সঙ্গে মুদ্রার সম্পর্ক কোথায়? মুদ্রার মূলকাজ হলো, পণ্যবিনিময়কে সম্ভব করে তোলা। মুদ্রার বিনিময়যোগ্যতার সঙ্গে গ্রহণযোগ্যতার সম্পর্ক আছে। একটি ৫০০ টাকার বা ১০০ ডলারের নোটের প্রকৃতপক্ষে কোনো মূল্য নেই। আমরা এগুলোকে মুদ্রা হিসেবে গ্রহণ করি, তাই সেগুলো মূল্যবান ও বিনিময়যোগ্য। সাংকেতিক মুদ্রার ক্ষেত্রেও তা-ই। ভেবে দেখবেন এককালে মানুষ কড়িকে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করত। সাংকেতিক মুদ্রা, স্বর্ণমুদ্রা বা কাগজের মুদ্রার সেদিক থেকে তেমন পার্থক্য নেই।

ব্লকচেইন প্রযুক্তির সমর্থকরা বলেন যে, সাংকেতিক মুদ্রা পণ্যের বিনিময়কে অনেক সহজ করবে। যেমন— কেউ বাংলাদেশ থেকে জাপানে কিছু রফতানি করতে চায়। রফতানির টাকা-পয়সার লেনদেন হয়ে থাকে ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এবং এ প্রতিষ্ঠানগুলো এজন্য মোটা অংকের ফি নিয়ে থাকে। ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এ ফি দেয়ার প্রয়োজন নেই, তাই খরচ অনেক কম হবে। একইভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য সাংকেতিক মুদ্রা ব্যবহারে খরচ হবে অনেক কম।

তার মানে বিটকয়েনসহ অন্যান্য সাংকেতিক মুদ্রা সহজেই প্রচলিত মুদ্রার জায়গা দখল করে নিতে সক্ষম এবং নিকট ভবিষ্যতে হয়তো তা-ই ঘটতে যাচ্ছে। ব্লকচেইনের প্রযুক্তির এই তাত্পর্য নিয়ে সংশয় একেবারেই নেই। কিন্তু সাংকেতিক মুদ্রাকে কি শেয়ার, স্বর্ণ বা হীরার মতো বিনিয়োগযোগ্য সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত? অনেকে তা-ই করছেন এবং করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। এক বছর আগে এক বিটকয়েনের দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ডলার, এখন তার দাম প্রায় ১৪ হাজার ডলার। মানে বিটকয়েনে বিনিয়োগ করে অনেকে রাতারাতি বড়লোক হয়ে গেছেন। এখন আমাদের বাকিদেরও কি তা-ই করা উচিত?

আমি মনে করি, বিটকয়েনসহ অন্যান্য সাংকেতিক মুদ্রাকে বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা একেবারেই উচিত নয়। দু-একজন হয়তো এতে লাভবান হবেন কিন্তু বেশির ভাগই মূলধন খোয়াবেন। বিটকয়েনের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে যা ঘটছে, তা ফাঁপা বেলুনের মতো। বেলুন যেমন একসময় ফেটে বা চুপসে যায়, বিটকয়েনের ক্ষেত্রেও তা-ই ঘটবে। কিন্তু কেন হবে এ পরিণতি? এ নিয়ে কথা বলতে হলে আমাদের অর্থনীতির একটি মৌলিক প্রশ্নে ফিরে যেতে হবে। প্রশ্নটি হলো, একটি জিনিসের মূল্য কীভাবে নির্ধারণ হয়? যেমন— স্বর্ণ আমাদের কাছে একটি মূল্যবান ধাতব কিন্তু কেন? যেকোনো জিনিসের মূল্য নির্ধারণ হয় দুটি বিষয়ের সমন্বয়ে। একটি হলো প্রস্তুত মূল্য, অর্থাৎ একটি জিনিস তৈরিতে কেমন খরচ হচ্ছে। স্বর্ণ, হীরা ইত্যাদি খননের খরচ অত্যন্ত বেশি, এগুলোর বিক্রয়মূল্যে তার প্রতিফলন থাকে। তেমনি বিটকয়েনের মাইনিং বা খননের খরচ বর্তমানে অত্যন্ত বেশি। বিটকয়েন মাইনিং করার জন্য প্রয়োজন অত্যন্ত শক্তিশালী কম্পিউটার, এর বিদ্যুৎ খরচ অস্বাভাবিক। তাই বিটকয়েনের খননমূল্য অত্যধিক। অন্যান্য সাংকেতিক মুদ্রার ক্ষেত্রে এ খরচ কিছুটা কম। বিটকয়েনের অত্যধিক মূল্যের কারণ অনেকটা এটাই।

দ্বিতীয় যে বিষয়টা মূল্য নির্ধারণ করে তা হলো, পণ্যের বিনিময়ে মানুষ কতটুকু মূল্য প্রদানে ইচ্ছুক। যেমন— আমরা স্বর্ণকে দুর্লভ ও আকর্ষণীয় ধাতব হিসেবে বিবেচনা করে থাকি। স্বর্ণের কোনো বিকল্প নেই এবং এজন্য আমরা অনেক মূল্য দিতে ইচ্ছুক। বিটকয়েন বা যেকোনো সাংকেতিক মুদ্রার বিকল্পের কোনো অভাব নেই। যেহেতু সাংকেতিক মুদ্রাগুলো সহজেই একে অন্যের জায়গা নিতে পারে, তাই ব্যবহারের দিক থেকে সেগুলো সমান উপযোগী। অন্যদিকে বিটকয়েনের প্রস্তুত মূল্য বা মাইনিং খরচ অত্যন্ত বেশি। তাই পরবর্তী মুদ্রাগুলো বিটকয়েন থেকে অনেক বেশি সাশ্রয়ী। তার মানে এগুলো বিটকয়েনের জায়গা দখল করে নেবে। কিন্তু তারা এ জায়গা দখল করতে পারবে শুধু স্বল্প সময়ের জন্যই। কারণ পরবর্তী সাংকেতিক মুদ্রাগুলো হবে আরো বেশি সাশ্রয়ী। অনেকখানি কম্পিউটার কেনার মতো, আপনি যত পরে কিনবেন, প্রযুক্তি তত বেশি উন্নত হবে।

টাকা, ডলার ইত্যাদির ক্ষেত্রে মুদ্রার সরবরাহকারী হলো রাষ্ট্র। তাই পৃথিবীতে যতগুলো রাষ্ট্র আছে, তেমনি কাছাকাছি সংখ্যক মুদ্রাও আছে। প্রচলিত মুদ্রার বাজারে অর্থনীতির পরিভাষার কোনো ফ্রি এন্ট্রি বা অবাধ অনুপ্রবেশ সম্ভব নয়। সাংকেতিক মুদ্রার ক্ষেত্রে তা খাটে না। যতদিন সাংকেতিক মুদ্রায় লাভ থাকবে, ততদিন সাংকেতিক মুদ্রাবাজারে নতুন নতুন মুদ্রার অনুপ্রবেশ ঘটবে। তাই যেকোনো সাংকেতিক মুদ্রার লাভ হবে স্বল্পমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদে লাভ ধরে রাখতে পারবে না।

অনেকেই বলেন যে, বিটকয়েনও স্বর্ণের মতো দুর্লভ হবে। কারণ সর্বোচ্চ ২ কোটি ১০ লাখ বিটকয়েন সৃষ্টি হতে পারবে। এ ধারণার মূলে আছে এক শিশুসুলভ বিভ্রান্তি। তারা বুঝতে পারেন না যে, সাধারণ সম্পদের বিভাজ্যতার ও বহনযোগ্যতার সীমাবদ্ধতা আছে, যা সাংকেতিক মুদ্রার নেই। স্বর্ণকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগে বিভক্ত করা যায় কিন্তু বহন করা সম্ভব নয়। যেমন— একটি স্বর্ণকণাকে আমাদের পক্ষে হাতে করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আবার কিছু সম্পদ বহনযোগ্য কিন্তু অবিভাজ্য। যেমন— ১ টাকাকে আমরা সর্বোচ্চ ১০০ ভাগে ভাগ করতে পারব। কিন্তু ১ পয়সাকে আর ভাগ করা যাবে না। শেয়ারের ক্ষেত্রেও তা সত্যি। একটি শেয়ারকে ভাগ করে দুটি অর্ধেক শেয়ার করা সম্ভব নয়। কিন্তু সাংকেতিক মুদ্রা একই সঙ্গে বহন ও বিভাজনযোগ্য। বর্তমানে একজনের পক্ষে সর্বনিম্ন ০.০০০০০০০১ বিটকয়েনের মালিক হওয়া সম্ভব। একটি কোড লিখে এটিকে আরো ক্ষুদ্র করা সম্ভব। বিটকয়েনকে সীমাবদ্ধ সম্পদ ভাবা তাই শুধুই একটা বিভ্রান্তি।

সাংকেতিক মুদ্রার আরেকটি সমস্যা মাইনিংয়ের অপরিহার্যতা। আগেই বলেছি যে, সাংকেতিক মুদ্রার বিনিময়কে কিছু জটিল যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এ প্রক্রিয়াটির বিদ্যুৎ খরচ অত্যন্ত বেশি। যারা এ কাজটা করেন, তারা প্রণোদনা হিসেবে সাংকেতিক মুদ্রা লাভ করেন, যা বর্তমানে বিদ্যুৎ ও যন্ত্রপাতির খরচ বাদ দিয়ে বেশ লাভজনক। যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়াটা লাভজনক না হলে তারা আর যাচাই-বাছাই করবেন না। তাই কাজটি না হলে সাংকেতিক মুদ্রার বিনিময় অসম্ভব। মানে একজনের মালিকানায় ১ লাখ বিটকয়েন থাকতে পারে কিন্তু তার বিনিময়ে সে কিছু করতে পারবে না।

উপরের আলোচনাসাপেক্ষে আমি তাই মনে করি যে, ভবিষ্যতে বিটকয়েন ও অন্যান্য সাংকেতিক মুদ্রার বাজারমূল্য হবে শূন্য। স্বল্পমেয়াদে কেউ কেউ এতে বিনিয়োগ করে লাভবান হয়েছেন বা হবেন। কিন্তু সাংকেতিক মুদ্রাকে সম্পদ মনে করে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অনুচিত।

আমাদের আরেকটু আলোচনা করা উচিত সাংকেতিক মুদ্রার মূল প্রযুক্তি ব্লকচেইন বিষয়ে। এর সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ ভূমিকা ও করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা। ব্লকচেইন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি। বলা হয়ে থাকে যে, ব্লকচেইন মানুষ কীভাবে একে অন্যকে বিশ্বাস করতে পারে বা নিশ্চয়তা দিতে পারে, তা পরিবর্তন করে ফেলেছে। বর্তমানে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বিশ্বাস ও নিশ্চয়তা আসে মধ্যস্থতাকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। ব্লকচেইনের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা ছাড়াই কম খরচে ও কম সময়ে বিশ্বাসযোগ্য বিনিময় সম্ভব। তাই ব্লকচেইন ভবিষ্যতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাকে খর্ব করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ইন্টারনেট যেমন তথ্য ও সংবাদের আদান-প্রদানকে অত্যন্ত সহজ করে তুলেছে, তেমনি ব্লকচেইন সহজ করে তুলবে অর্থের আদান-প্রদান। তাই ভবিষ্যতে টিকে থাকার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রমের ব্যাপক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হতে পারে। শুধু দু-একটি সার্কুলারের মাধ্যমে এ ঝড় ঠেকানো সম্ভব হবে না। উট পাখির মতো এখানে মুখ গুঁজে থেকে লাভ হবে না। অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?

তাই বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য বেসরকারি ব্যাংকের উচিত এখনই সুপার কম্পিউটারের মাধ্যমে একটি সাংকেতিক মুদ্রার মাইনিং সেল গঠন করে ব্লকচেইন প্রযুক্তির সব দিক সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা নেয়া। সুপার কম্পিউটার, মাইনিংয়ের যন্ত্রপাতি ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক সিস্টেমের জন্য আনুমানিক ৫০ লাখ টাকা লাগবে। কাজটি করার জন্য বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ আনার প্রয়োজন নেই, দরকার নেই বিদেশ ভ্রমণের। বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য গ্র্যাজুয়েটদের নিয়োগ করেই এটা করা সম্ভব।

ব্লকচেইন প্রযুক্তি এখন তার শৈশবে। ইন্টারনেট যখন চালু হয়েছিল বা নব্বইয়ের দশকের দিকে ভবিষ্যতে কী হবে কেউ তা বুঝে উঠতে পারেনি। অথচ আজ ফেসবুক, ইউটিউব, অ্যামাজন, গুগল, উইকিপিডিয়া, স্মার্টফোন ইত্যাদি আমাদের জীবনকে বৈপ্লবিকভাবে বদলে ফেলেছে। ব্লকচেইনের ক্ষেত্রেও তা-ই ঘটবে বলে সুজান এইথিসহ প্রথিতযশা অনেক অর্থনীতিবিদ অনুমান করেছেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং ও ব্লকচেইন ইত্যাদি নতুন প্রযুক্তি এরই মধ্যে উন্নত বিশ্বের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা শুরু করেছে। বাংলাদেশের মতো দেশ আগামী ৫-১০ বছরের মধ্যেই এর প্রভাব টের পেতে শুরু করবে। কী ঘটবে তা আমরা জানি না কিন্তু বড় কিছু ঘটবে তা নিশ্চিত। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তাই এখন থেকেই এসব বিষয়ে জ্ঞানার্জনের জন্য বিনিয়োগ শুরু করা উচিত। এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়া এবং সেভাবে কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা ভবিষ্যতে টিকে থাকার জন্য হবে অত্যন্ত জরুরি।

লেখক:

ড. মেহেদী মাহমুদ চৌধুরী
যুক্তরাজ্যের বোর্নমাউথ ইউনিভার্সিটিতে অর্থশাস্ত্রের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক।
{ সংগ্রিহীত: দৈনিক বণিকবার্তা }

See More
বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে অন্যতম সৃজনশীল পেশার নাম হচ্ছে ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট। ওয়েব দুনিয়ায় �...
bikroy.com

আজকেই এই পোস্ট ট্যালেন্টেড ফাঁকিবাজদের জন্য। আজকে আমি দেখাবো কি করে মাত্র ১ মাসে ( হ্যাঁ সত্যি ১ মাস ) নিজেকে ওয়েব ডেভেলপমন্ট ক্যাটেগরির জব করার মত করে উপযোগী ক...রতে পারবেন।

তাহলে শুরু করা যাকঃ
টাস্ক ১ঃ https://goo.gl/DiqjVB এই খান থেকে এইচটিএমএল ও সিএসএস শিখুন। ৪০ টা ভিডিও আছে, ডেইলি ১০টা দেখবেন, তাহলে ৪ দিনে শেষ।
টাস্ক ২ঃ টুইটার বুটস্ট্রাপে কিভাবে টেমপ্লেট বানাতে হয়, শিখুন এখানে। https://goo.gl/SmzcMn ৪টি ভিডিও আছে, ১ দিনে শেষ করুন।
টাস্ক ৩ঃ বেসিক ওয়ার্ডপ্রেস শিখুন এইখান থেকে https://goo.gl/zzfTwK (সময় ২ দিন)
টাস্ক ৪ঃ বেসিক উকমার্স শিখুন এইখান থেকে https://goo.gl/Y2DHB1 (সময় ৩ দিন)
টাস্ক ৫ঃবেসিক শপিফাই শিখুন এইখান থেকে https://www.youtube.com/watch?v=N1DQOu907kA
https://www.youtube.com/watch?v=RYfuTLZdCYM ( সময় ৩ দিন )
টাস্ক ৬ঃ মোটামুটি মানের থিম ডেভেলপমেন্ট শিখুন এইখান থেকে https://goo.gl/VmXZ86 (সময় ১৪ দিন)

এই মোট ২৭ দিন। আলসেমী করবেন ৩ দিন

কি কি কাজ পারবেন এইগুলা শিখলে?

ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েবসাইট বানানো ছেলের হাতের মোয়া। উকমার্স দিয়ে ইকমার্স সাইট দাঁড় করাতে পারবেন। শপিফাই সাইট দাঁড় করাতে পারবেন। চাইলে ম্যাজেন্টোও শিখে ফেলতে পারেন, গুগল মামাকে জিজ্ঞেস করেন, রাস্তা দেখায়ে দিবে।

ওয়ার্ডপ্রেসে একটা সাইট বানাতে কত চার্জ করবেন?

আপনি শুরুতে সিম্পল সাইট ২০০ ডলারে করতে চাইবেন, কারণ আপনি এটা দিয়েই অনেক কিছু শিখবেন। আর ইকমার্স বানাতে চাইলে আরো ১০০ এড করে নিবেন। [একান্ত ব্যক্তিগত মতামত, আমি ২০১৪ সালে এই থিওরি এপ্লাই করেছি]

তারপর যখন দেখবেন বেশ কিছু টাকা আসবে তখন আপনি আরো ভাল কিছু করবার সাহস পাবেন

এডিটঃ আমার নিজের একটা ভিডিও প্লেলিস্ট আছে (বিজ্ঞাপনমুক্ত) https://www.youtube.com/watch…
চাইলে দেখতে পারেন আলসেমীর ঐ ৩ দিনে

আতিকুর রহমান আতিক

See More
Subscribe to this channel if the tutorials helped you to help me out with my work and visit my website http://www.bdgeeks.com.
youtube.com
আমার জন্ম জামালপুর জেলার এক অজপাড়াগাঁয়ে। ১৪ কিলোমিটার দূরের শহরে যেতে হতো পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে চড়ে। পুরো গ্রামের মধ্যে একমাত্র মেট্রিক পাস ছিলেন আমার চাচা মফিজউদ্দিন। আমার বাবা একজন অতি দরিদ্র ভূমিহীন কৃষক। আমরা পাঁচ ভাই, তিন বোন। কোনরকমে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটতো আমাদের। আমার দাদার আর্থিক অবস্থ...
bn.bangla.report

এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়— হেলাল হাফিজের রক্তে আগুন ধরানো কবিতা।
উদ্যোক্তা কি জন্মগত নাকি প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করা সম্ভব— এ বিতর্ক অনেক পুরনো। অর্থাত্ উদ্যোক্তা হতে হলে কি রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, মেসি, সাকিব আল হাসানের মতো জন্মগত প্রতিভা নিয়ে জন্মাতে হয়? উদ্যোক্তার গুণাবলি কি জিনগত? বংশপরম্পরায় চরিত্রে প্রস্ফুটিত হয়? সেক্ষেত্রে অনর্থক এত প্রশিক্ষণ দিয়ে কী লাভ? সেই বিতর্কে না-ইবা গেলাম। তবে উদ্যোক্তাদের মধ্যে কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়—
সৃজনশী...

Continue Reading
Image may contain: 1 person, suit and closeup
Apple Special Event 2017 LIVE STREAM HD - Presentation iPhone X, iPhone 8, iPhone 8 Plus LIVE Livestream of the 2017 Apple Special Event on September the 12t...
youtube.com
Image may contain: 1 person, text
আমাদের খুলনা - Amader Khulna

একজন আকিজ উদ্দীনের গল্প।।। ১৬ টাকা নিয়ে পথচলা শুরু আর আজ বাংলাদেশের অন্যতম সেরা গ্রুপ অব কোম্পানি।

খুলনার ফুলতলা থানার মধ্যডাঙ্গা গ্রামে ১৯২৯ সালে জন্ম নেন শেখ... আকিজ উদ্দীন। শৈশব কেটেছে কঠিন দারিদ্র্যের মধ্যে। মাত্র ১৬ টাকা পুঁজি নিয়ে ১৩ বছর বয়সে গলায় ঝুড়ি ঝুলিয়ে কমলালেবুর ফেরিওয়ালা হিসেবে ব্যবসা শুরু। এরপর ১৯৫২ সালে বিড়ির ব্যবসার মধ্য দিয়ে ব্যবসার গতি-প্রকৃতি একেবারে জাদুর মতো বদলে যেতে থাকে।

পরবর্তী সময়ে যে ব্যবসায় হাত দিয়েছেন, সেখানেই সাফল্য পেয়েছেন তিনি। একে একে তিনি দেশের উল্লেখযোগ্য ২৩টি শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠা করে ব্যবসার জাদুকরে পরিণত হন।

খুলনার ফুলতলা থানার মধ্যডাঙ্গা গ্রামে জন্ম নেয়া শেখ আকিজ উদ্দীনের শৈশব কেটেছে কঠিন দারিদ্র্যের মধ্যে।
স্বপ্ন দেখতেন দারিদ্র্য জয় করে একদিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াবেন। কিন্তু জীবনসংগ্রামের শুরুতে পদে পদে বাধার মুখে পড়েন। সেই বাধা পেরোতে শেখ আকিজ উদ্দীনের সম্বল ছিল সাহস, সততা আর কঠোর পরিশ্রম। এই তিনটি জিনিসকে পুঁজি করেই শুরু হয় উদ্যোক্তা আকিজ উদ্দীনের উত্থান পর্ব। তিনি দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে লাখো মানুষের নিয়োগকর্তা হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান। কিভাবে শুরু হলো তার উত্থান।

ব্যবসা শুরুর পদে পদে বাধা :

আকিজ উদ্দীনের বাবা শেখ মফিজ উদ্দিন ছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসয়ী। তিনি খুলনার ফুলতলা থানার মধ্যডাঙ্গা গ্রামে ফল ও ফসলের মৌসুমি ব্যবসা করতেন। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে মা-বাবার একমাত্র সন্তান হয়েও আকিজ লেখাপড়া করার সুযোগ পাননি। তিনি খুব কাছ থেকে দারিদ্র্য দেখেছেন। আর গভীরভাবে বাবার ব্যবসা পর্যবেক্ষণ করেছেন। স্বপ্ন দেখেছেন।

কিন্তু স্বপ্নের কোনো কিনারা করতে না পেরে ১৯৪২ সালে মাত্র ১৬ টাকা হাতে নিয়ে জীবিকার সন্ধানে কিশোর শেখ আকিজ উদ্দিন খুলনার মধ্যডাঙ্গা গ্রাম থেকে বের হন। ট্রেনে চেপে তিনি কলকাতায় যান। কলকাতার শিয়ালদহ রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে তিনি রাত কাটাতেন। ওখানেই পাইকারি বাজার থেকে কমলালেবু কিনে ফেরি করে বিক্রি করেছেন। কিছু দিন কমলালেবুর ব্যবসা করার পর তিনি একটি ভ্রাম্যমাণ দোকান দেন।

কিন্তু একদিন পুলিশ অবৈধভাবে দোকান দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। কয়েক দিন জেল খেটে মুক্ত হয়ে আকিজ উদ্দিন উদ্ভ্রান্তের মতো কলকাতা শহর ঘুরেছেন। কলকাতায় তাঁর সঙ্গে পাকিস্তানের পেশোয়ারের এক ফল ব্যবসায়ীর পরিচয় হয়। আকিজ ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে পেশোয়ারে গিয়ে ফলের ব্যবসা শুরু করেন। দুই বছর ব্যবসা করে তাঁর পুঁজি দাঁড়ায় ১০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আকিজ বাড়ি ফিরে আসেন।

উত্থানের গল্প : ১৯৫২ সালের দিকে বন্ধুর বাবা বিড়ি ব্যবসায়ী বিধু ভূষণের সহযোগিতায় আকিজ উদ্দিন বিড়ির ব্যবসা শুরু করেন।পাশাপাশি তিনি গ্রামগঞ্জ ঘুরে ধান, পাট, নারকিল ও সুপারি কিনে আড়তে আড়তে বিক্রি করেছেন। সামান্য কিছু টাকা জমিয়ে বাড়ির পাশে বেজেরডাঙ্গা রেলস্টেশনের কাছে একটি দোকান দেন।

কিন্তু দোকানটি আগুনে পুড়ে যায়। আকিজ সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তিনি এলাকাবাসীর সহায়তায় ফের দোকান দেন।পাশাপাশি শুরু করেন ধান, পাট, চাল ও ডালের ব্যবসা। এরপর তিনি সুপারির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। রাত জেগে সেই সুপারি ছিলে দিতেন তাঁর সহধর্মিণী। এই সুপারি তিনি কলকাতায় পাঠাতেন।

সুপারির ব্যবসায় তাঁর বেশ লাভ হয়। এরপর তিনি বিধু বিড়ির মালিক বিধু ভূষণের পরামর্শে বিড়ির ব্যবসায় যুক্ত হন। নাভারণের নামকরা ব্যবসায়ী মুজাহার বিশ্বাসের সহায়তায় তিনি ছোট্ট একটি বিড়ি তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন। শুরু হয় আকিজের উত্থান পর্ব।

বিড়ি ফ্যাক্টরির পর ১৯৬০ সালে অভয়নগরে অত্যাধুনিক চামড়ার কারখানা এসএএফ ইন্ডাস্ট্রিজ, ১৯৬৬ সালে ঢাকা টোব্যাকো, ১৯৭৪ সালে আকিজ প্রিন্টিং, ১৯৮০ সালে আকিজ ট্রান্সপোর্ট, নাভারণ প্রিন্টিং, ১৯৮৬ সালে জেস ফার্মাসিউটিক্যাল, ১৯৯২ সালে আকিজ ম্যাচ, ১৯৯৪ সালে আকিজ জুট মিল, ১৯৯৫ সালে আকিজ সিমেন্ট, আকিজ টেক্সটাইল, ১৯৯৬ সালে আকিজ পার্টিকেল, ১৯৯৭ সালে আকিজ হাউজিং, ১৯৯৮ সালে সাভার ইন্ডাস্ট্রিজ, ২০০০ সালে আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, একই বছর আকিজ অনলাইন, নেবুলা ইন্ক, ২০০১ সালে আকিজ করপোরেশন, আকিজ কম্পিউটার, আকিজ ইনস্টিটিউট অ্যান্ড টেকনোলজি, ২০০৪ সালে আফিল এগ্রো, ২০০৫ সালে আফিল পেপার মিলস প্রতিষ্ঠা করেন।

২০০৬ সালের ১০ অক্টোবর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শেখ আকিজ উদ্দিন অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

এ ছাড়া তিনি আদ্-দ্বীন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করে স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর মৃত্যুর পর সন্তানরা আরো অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

আকিজ উদ্দিনের ১৫টি সন্তান। ১০ ছেলে পাঁচ মেয়ে। বড় ছেলে ডাক্তার শেখ মহিউদ্দিন আদ্-দ্বীনের নির্বাহী পরিচালক ও আকিজ বিড়ির চেয়ারম্যান, অন্য সন্তানদের মধ্যে শেখ মোমিন উদ্দিন এসএএফ চামড়া ফ্যাক্টরির এমডি, শেখ আফিল উদ্দিন সংসদ সদস্য ও আফিল গ্রুপের এমডি, শেখ বশির উদ্দিন আকিজ গ্রুপের এমডি।

এ ছাড়া শেখ নাসির উদ্দিন, শেখ আমিন উদ্দিন, জামিন উদ্দিন, শেখ আজিজ উদ্দিন, শেখ জামিল উদ্দিন সবাই আকিজ গ্রুপের সঙ্গে জড়িত।

বাবার স্মৃতিচারণা করে ডাক্তার শেখ মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমার বাবা আমাদের বলতেন, আগুন হয়তো মনের শক্তি দিয়ে হাতে চেপে রাখা যায়। কিন্তু ক্ষমতা ও সম্পদ ধরে রাখা তার চেয়ে আরো অনেক কঠিন। বাবার এই বাণী ধারণ করে তাঁর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সমাজসেবার হাল ধরে রেখেছি।’

শেখ বশির উদ্দিন বলেন, ‘বাবার নামাজ-কালামের পরই ছিল ফিন্যানশিয়াল ডিসিপ্লিনের স্থান। এ ছাড়া তাঁর সময়জ্ঞান ছিল উল্লেখ করার মতো। তিনি কোনো মিটিংয়ে এক মিনিট পরে আসেননি। আমি তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দুটি অনুসরণ করে লাভবান হয়েছি।’

শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, ‘বাবার মধ্যে কোনো আত্ম-অহমিকাবোধ ছিল না। তিনি সব কিছু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। তাঁর দূরদর্শিতার কারণেই আকিজ গ্রুপ সমপ্রসারিত হয়েছে।’

শেখ মোমিন উদ্দিন বললেন, ‘বাবার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল না। কিন্তু তাঁর শিক্ষার প্রতি প্রেম ছিল।

বিশেষ কৃতজ্ঞতায়ঃ Mohammad Al-Amine Mollah

__AH__

See More
এক পাতার বিজনেস প্ল্যান. এক পাতার বিজনেস প্ল্যান আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্যযে কোন উদ্যোক্তার জন্যই বিজনেস প্ল্যান গুরুত্বপূর্ন। উদ্যোক্তা হিসেবে প্রথমেই একপৃষ্ঠার একটি প্ল্যান করে ফেলুন, অনেকেই অবশ্য এ নিয়ে সন্দেহ পোষন করবেন এক পৃষ্ঠায় একটি পরিকল্পনা দিয়ে বড় লক্ষ্যে পৌঁছানো কিভাবে সম্ভব। খুবই সম্ভব আপ...
peopic.com